সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে রান্নাঘরের ওপর ধসল পাহাড়, গৃহবধূর মৃত্যু

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১২ জুলাই ২০২৬ | ১২:১৯ অপরাহ্ন


টানা ভারী বর্ষণের ফলে ৪০ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু পাহাড়ের একটি মাটির খণ্ড রান্নাঘরের ওপর ধসে পড়ে কক্সবাজারে রোজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মাটিচাপা পড়া অবস্থা থেকে তাঁর স্বামী মুজিবুর রহমান এবং তিন শিশুসন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের চন্দ্রিমা ঝিরঝিরিপাড়ায় এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

এলাকাটি কক্সবাজার সদর উপজেলা ঝিলংজা ইউনিয়নের কলাতলী ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘ সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় রোজিনা আক্তার শ্বাস নিতে পারেননি।

এ কারণেই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ি এই এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি এখনো পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। বারবার মাইকিং করে সতর্ক করার পরও লোকজন নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে রাজি হন না।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী পাহাড়ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি পাহাড় ধসে মুজিবুর রহমানের টিনের আধাপাকা ঘরের ওপর পড়ে।

এতে রান্নাঘরটি ভেঙে যায় এবং সেখানে থাকা রোজিনা আক্তার মাটির নিচে চাপা পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মাজেদ জানান, হঠাৎ পাহাড়ধসের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান এবং পরিবারের সবাইকে মাটিচাপা পড়া অবস্থায় দেখতে পান।

তারা মাটি সরিয়ে মুজিবুর রহমান ও তার তিন শিশুসন্তানকে উদ্ধার করলেও রোজিনাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে ঘটনার কথা জানান।

এরপর রাত সোয়া ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

টানা দেড় ঘণ্টা মাটি সরিয়ে রাত ১১টার দিকে রোজিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ৭ জুলাই বেলা দুইটার দিকে একই এলাকার বড়ছড়া পাহাড়ের হাজিঘোনায় পাহাড়ধসে লিমা আক্তার নামে আরেক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় লিমা আক্তারের স্বামী জসিম উদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছিলেন।