
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বপদে থেকে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এমন বিধানসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে একগুচ্ছ সংশোধনী আনার প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানোর চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রস্তাবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে একই ধরনের বিধান রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা।
পাশাপাশি জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের ক্ষমতা ইসি নিজেদের হাতে রাখতে চায়।
ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনাল কেবল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সাজা বাড়িয়ে ছয় মাস কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান যুক্ত করতে চায় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব প্রস্তাবনার বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের আইনগুলোতে কয়েকটি বিষয়ে একেক ধরনের বিধান রয়েছে।
সব আইনে একই ধরনের বিধান থাকলে ভালো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে তারা একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন।
তবে বিদ্যমান আইনেও নির্বাচন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এমপিওভুক্তদের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকরা প্রার্থী হলে সহকর্মীদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মোতায়েনের বিধান চিন্তা করা হচ্ছে।
এ বিধান যুক্ত হলে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিজিবির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সরাসরি মোতায়েন করতে পারবে ইসি।
আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
তাই আইনে সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা ইসির কাছে থাকবে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
এছাড়া হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান এবং মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়েও একই বিধান আনতে চায় নির্বাচন কমিশন।