
কর্ণফুলী নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ এক যুবকের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবকের নাম মো. সোলেমান (২০)।
তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পূর্ব সরফভাটা লোকমান মিস্ত্রীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোলেমান ও তার বড় ভাই আব্দুল হালিম (৩০) একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান।
এ সময় নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে দুই ভাই পানিতে পড়ে যান।
আশপাশে থাকা অন্য লাকড়ি সংগ্রহকারীরা আব্দুল হালিমকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
তবে সাঁতার না জানা সোলেমান মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন বড় ভাই আব্দুল হালিম।
তিনি জানান, ছোট ভাই নৌকার পানি সেচ দিচ্ছিল এবং কিনারার দিকে আসার সময় নৌকাটি হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, সাঁতার না জানা ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও নৌকাটি শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়।
ডুবে যাওয়ার সময় ছোট ভাই তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল এবং এতে তিনিও পানির নিচে তলিয়ে যান।
অনেকক্ষণ পর হাত ভাসাতে পারলে এক জেলে তাকে উদ্ধার করেন, কিন্তু সোলেমানকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সোলেমান নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
তবে কর্ণফুলী নদীর তীব্র স্রোতের কারণে দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে সোমবার সকালে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হলে সেটি সোলেমানের বলে শনাক্ত করা হয়।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান সার্বিক বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালালেও স্রোত বেশি থাকায় সেদিন সোলেমানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকালে ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।