
চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি এবাদতখানা থেকে বিষধর পদ্ম গোখরো সাপের ১২টি ডিম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর উদ্দেশ্যে এসব ডিম উদ্ধার করেছে ‘চট্টগ্রাম স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ’।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পুকুরপাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ওই এলাকার চিশতীয়া খানকাহ শরীফ নামের এবাদতখানার একটি জরাজীর্ণ স্থান থেকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ডিমগুলো নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
চিশতীয়া খানকাহ শরীফ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম উল্লাহ জানান, সোমবার রাতে খানকাহ শরীফের এক কোণে তারা একটি সাপ দেখতে পান।
পরে সাপটি উদ্ধার করার জন্য রেসকিউ টিমকে খবর দেওয়া হয়।
উদ্ধারকারী দল সেখানে গিয়ে সাপ না পেলেও ১২টি ডিমের সন্ধান পায় এবং নিরাপদে সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ডিম উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক এলাকাবাসী সেখানে ভিড় জমান এবং প্রাথমিকভাবে কেউ কেউ ডিমগুলো নষ্ট করার চেষ্টাও করেছিলেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তির হস্তক্ষেপে বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয় এবং পরে রেসকিউ টিম এসে ডিমগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়।
চট্টগ্রাম স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সিনিয়র রেসকিউয়ার মো. নাঈম উদ্দিন বিজয় জানান, উদ্ধার হওয়া ডিমগুলো অত্যন্ত বিষধর পদ্ম গোখরো সাপের।
ডিমগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মো. নাঈম উদ্দিন বিজয় আরও জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম উপায়ে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হবে, যাতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে।
বাচ্চাগুলো ফুটে বের হলে সেগুলোকে লোকালয় থেকে দূরে কোনো গভীর প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
ডিম উদ্ধারের সময় মা সাপটি সম্ভবত খাদ্যের সন্ধানে বাইরে থাকায় সেটিকে পাওয়া যায়নি।
সাপ পরিবেশের পরম বন্ধু এবং জীববৈচিত্র্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে এই সিনিয়র রেসকিউয়ার উল্লেখ করেন।
লোকালয়ে সাপ বা সাপের ডিম দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেগুলোকে আঘাত না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তৎক্ষণাৎ বন বিভাগ বা উদ্ধারকারী দলকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।