সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

একুশে পত্রিকার প্রতিবেদনের পর নড়ল প্রশাসন, আবদুল বারীর ঘর হবে

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন | প্রকাশিতঃ ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৫ অপরাহ্ন

মাথায় হাত দিয়ে ভাঙা ঘরের সামনে বসে ছিলেন আবদুল বারী। চোখে পানি, কণ্ঠে কথা নেই। ৬৫ বছরের জীবনে যা কিছু ছিল— একটি মাটির ঘর— সেটাও টানা বৃষ্টিতে ধসে গেছে। স্ত্রী, দুই ছেলে আর পাঁচ মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে।

সেই করুণ ছবিটি “একমাত্র মাটির ঘর ধসে পড়ল, পাশে নেই কেউ” শিরোনামে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর সেই রাতেই বদলে গেল ছবিটা।

প্রতিবেদন পড়েই ফোন করলেন ইউএনও

রাত তখন ১১টা। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ একুশে পত্রিকার এ প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেন। লিখলেন, “ভাই, এই ঘরটি পুনঃনির্মাণের যাবতীয় ব্যবস্থা আমি করবোই, আপনি জাস্ট ঠিকানাটা আমাকে বুঝিয়ে লিখে দিন। বাকিটা দ্রুত হবে ইনশাল্লাহ।”

এরপর ফোনেও কথা হয়। ইউএনও জানান, একুশে পত্রিকায় প্রতিবেদনটি তিনি নিজেই পড়েছেন। লোহাগাড়ার সেই প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো স্বেচ্ছাসেবক পৌঁছাতে পারেননি, তাই আবদুল বারীর নাম পুনর্বাসনের তালিকায় এখনো ওঠেনি। কিন্তু এখন তিনি নিজে উদ্যোগ নেবেন।

ইউএনও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে— যাদের ঘর পুরোপুরি ভেঙে গেছে, তাদের ঘর পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এজন্য নির্দিষ্ট ‘ডি ফর্ম’ পূরণ করতে হয়। ইউএনও নিজে আবদুল বারীকে সেই ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

একটি প্রতিবেদন, একটি পরিবারের নতুন আশা

আবদুল বারীর পরিবার জানত না, তাদের কষ্টের গল্প একদিন গণমাধ্যমে আসবে। জানত না, সেই গল্প পড়ে রাত ১১টায় একজন সরকারি কর্মকর্তা ফোন তুলবেন। সাংবাদিকতা যে শুধু ঘটনা জানানোর কাজ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর হাতিয়ারও— আজকের এই রাতটা সেটা আরেকবার প্রমাণ করল।

লোহাগাড়ার উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় এখনো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটছে আবদুল বারীর পরিবারের। কিন্তু আজ রাতে তাদের ঘুমটা হয়তো একটু হালকা হবে। কারণ দূরে কোথাও একজন মানুষ কথা দিয়েছেন— ইনশাল্লাহ, ঘর হবে।