সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগরে দুটি নৌকা ডুবে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৬ জুলাই ২০২৬ | ৪:৫২ অপরাহ্ন


মিয়ানমারের উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে যাওয়া রোহিঙ্গারাও ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক যৌথ বিবৃতিতে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করে।

দুটি নৌকায় ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা।

ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও সম্ভাব্য এই প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম বলছে, সর্বশেষ ঘটনায় প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে একটি নৌকা যাত্রার কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ আরোহী নিয়ে আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব নৌযাত্রা নিয়মিত মৌসুমের বাইরে হওয়ায় সে সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি ছিল আরও বেশি প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

মিয়ানমারে সংঘাত এবং বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থীশিবিরের কঠিন জীবনযাপন রোহিঙ্গাদের এমন ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে।

নিরাপত্তা ও জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর আশায় তারা ছোট কাঠের নৌকায় চড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করে থাকেন।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, বরং তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি করে।

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ রোহিঙ্গাদের সংকট আরও তীব্র করেছে।

রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সংঘাতের মধ্যে সাধারণ রোহিঙ্গারা আটকা পড়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

এর ফলে এই পথটি শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ বা মারা গেছেন।

এর আগে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে লাংকাবি উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।