সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

জুলাইয়ের ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার: চট্টগ্রামের এসপি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৬ জুলাই ২০২৬ | ৬:৪০ অপরাহ্ন


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া নতুন বাংলাদেশের অর্জন রক্ষায় ছাত্র-জনতার ঐক্যে ফাটল ধরলে সবারই ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বিপিএম।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদ চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুকসহ সব শহীদের স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সকালে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদের স্মরণে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসপি মাসুদ আলম বলেন, গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তীব্র প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুক নিহত হওয়ার পর আন্দোলনের গতি আরও বেড়ে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হলেও ধীরে ধীরে তা এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং সারা দেশে এর ব্যাপক গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসে।

আন্দোলনের চেতনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আঁকা দেয়ালচিত্র ও গ্রাফিতিতে নতুন প্রজন্মের ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে।

বিশেষ করে ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ’ এবং ‘যদি রুখে দাঁড়াও, তুমি বাংলাদেশ’ স্লোগানগুলো গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, ছাত্র-জনতা যে ঐক্য ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।

শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করার পাশাপাশি জুলাইয়ের ঐক্য রক্ষার দায়িত্ব সবার বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সাধারণ সম্পাদক ও টাইম অব বাংলাদেশ পত্রিকার চট্টগ্রামের আবাসিক সম্পাদক সালেহ নোমান এবং প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ডেইজি মওদুদ।

এছাড়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মিয়া মো. আরিফ, অর্থ সম্পাদক ও এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি আবুল হাসনাত এবং গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী এবং দৈনিক ইনকিলাবের ডেপুটি ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম।

সেই সঙ্গে এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও কার্যকরী সদস্য আরিচ আহমেদ শাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক চট্টগ্রামের সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন এবং সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

এছাড়া কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ফারুক মনির, সকালবেলা পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইমরান এমি বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জোবাইর চৌধুরী এবং আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এম কে মনির উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।