সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হালদায় ভাসছে মৃত গরু, দূষণের ঝুঁকিতে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৭ জুলাই ২০২৬ | ৭:৩৪ অপরাহ্ন


এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মৃত প্রাণী ফেলার কারণে মারাত্মক দূষণের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ নদীর মাঝস্রোতে একটি মৃত গরু ভাসতে দেখার পর পানির গুণগত মান এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন করে এই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ চৌমুহনী এলাকায় মৃত গরুটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশাল আকৃতির ওই গরুটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

তবে কে বা কারা এবং কোন এলাকা থেকে মৃত পশুটি নদীতে ফেলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিছু অসচেতন ব্যক্তি নদীতে মৃত প্রাণী ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলায় হালদার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

এভাবে মৃত প্রাণী ফেলার ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য ও হালদা গবেষক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া পরিবেশগত বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

তিনি জানান, হালদা নদী রুইজাতীয় মাছের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র।

নদীতে মৃত প্রাণী বা যেকোনো ধরনের বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয় বলে প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া উল্লেখ করেন।

এটি মাছের বিচরণ, প্রজনন এবং পুরো নদীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে খবর পাওয়ার পর দুটি টিম ঘটনাস্থল শনাক্তের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান।

মৃত গরুটির অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত উদ্ধার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মো. আজিজুর রহমান নিশ্চিত করেন।