
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত দুই কৃষকের জানাজায় হাতাহাতির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এক আলেম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন করা নিয়ে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির একটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে এই গুজব ছড়ানো হয়েছে।
ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ এস এম শাহজাহান চৌধুরী শিপন এবং মাওলানা শায়খ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান এই গুজবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ভূজপুর ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকায় ছিঁড়ে পড়া পল্লী বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়।
পরে তাদের জানাজায় ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মাত্র ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও এই ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়।
চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিপন জানান, জানাজার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জবাবদিহিতার দাবি ওঠে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় এবং ইউএনওর অনুপস্থিতি নিয়ে তখন কথা বলছিলেন মাওলানা শায়খ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান।
একপর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোন থেকে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি ঘটনাস্থলে কেন উপস্থিত হননি, সেটিও জানতে চান।
চেয়ারম্যান তখন শায়খকে জানান যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় হয়তো আসতে পারেননি এবং তিনি নিজেই বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ওই সময়ের একটি ভিডিওর খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মসজিদের ভেতরে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হয়।
এ বিষয়ে মাওলানা শায়খ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় দুই কৃষকের মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকাহত।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষে এমন মানবিক সহায়তা দেওয়া একেবারেই অসম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউএনওকে ফোনে কথা বলার বিষয়টিকে হাতাহাতি হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় নয়।
বিভ্রান্তিকর এই তথ্য ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
তাদের দাবি, মাওলানা শায়খ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান ইউএনওর সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানের হাত থেকে মোবাইল ফোন নিতে চেয়েছিলেন।
তবে চেয়ারম্যান নিজেই ইউএনওর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানালে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং এটিকে হাতাহাতি হিসেবে প্রচার করা বাস্তবতার পরিপন্থী।