সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

দীঘিনালায় বন্যায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

জাকির হোসেন | প্রকাশিতঃ ২১ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন


টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ সড়ক খাতে প্রায় ৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গত ৮ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলা এই বন্যায় গবাদিপশু, বসতবাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

বন্যার পানি নেমে গেলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

এতে কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, পাহাড়ি ঢলে সাম্প্রতিক এই বন্যায় উপজেলার প্রায় ৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৫৬ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে ইউএনও তানজিল পারভেজ নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং তথ্য পাওয়া গেলে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ১ হাজার ৬১১ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, বন্যায় উপজেলার ৬৮ হেক্টর জমির আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এর মধ্যে শুধু সবজি খাতেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মেরুং ইউনিয়নের বেলছড়ি এলাকার কৃষক মো. শামীম জানান, বন্যার কারণে তার ২৮ কেজি আমন ধানের বীজ নষ্ট হয়ে গেছে।

নতুন করে বীজ ফেলতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে মো. শামীম উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ১২৯টি মাছের পুকুর ভেসে গিয়ে প্রায় ৭৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শরৎ কুমার ত্রিপুরা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরগুলোর তালিকা করা হয়েছে।

এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে জানিয়ে শরৎ কুমার ত্রিপুরা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহযোগিতা করা হবে।

মেরুং ইউনিয়নের উদয়চান মহাজনপাড়া মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক অপরুপ চাকমা জানান, তাদের তিনটি পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া বন্যায় গ্রামীণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি গ্রামীণ সড়কের প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতে আনুমানিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

মো. রাজু আরও জানান, এর মধ্যে দীঘিনালা–পানছড়ি সড়কের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করা হবে।