সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

লোহাগাড়ায় ৬৩ হাজার ইয়াবাসহ দম্পতি ও চার পাচারকারী গ্রেপ্তার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২১ জুলাই ২০২৬ | ১২:৪০ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পেটের ভেতর, গাড়ির ইঞ্জিন ও মোটরসাইকেলের গিয়ার বক্সে লুকিয়ে অভিনব কায়দায় মাদক পাচারের সময় ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক চারটি অভিযানে এক দম্পতিসহ মোট ছয়জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল টয়োটা জিপ এবং একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। রোববার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার চুনতি চেকপোস্ট ও আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় বন্যপ্রাণী রেঞ্জ বন কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে চেকপোস্ট পরিচালনা করছিলেন লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিপ্লব চন্দ্র নাহা ও তার সঙ্গীয় ফোর্স।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি সাদা রঙের টয়োটা জিপ (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৬-৫৬৭৮) থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। চালক তা অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে জানানো হয়। তিনি থানার সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কৌশলগত ব্যারিকেড স্থাপন করে পালিয়ে আসা গাড়িটি ঘিরে ফেলেন।

পরে জিপে তল্লাশি চালিয়ে ইঞ্জিনের বাম পাশে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মো. আল মামুন, তার স্ত্রী ইসমাত জেরিন এবং গাড়িচালক মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মো. আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

একইদিন বিকেল ৪টার দিকে এসআই গোবিন্দ চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে আমিরাবাদ স্টেশন এলাকার মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। সেখানে হানিফ সুপার বাসের যাত্রী মো. সিদ্দিককে সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মো. সিদ্দিক নিজের পেটের ভেতর ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষা করলে তার পেটে ছোট ছোট প্যাকেটের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তার পেট থেকে ৭৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুনতি রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে আরেকটি চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে ইয়ামাহা ভি-৪ (V-4) মোটরসাইকেলের গিয়ার বক্সের ভেতর কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে চালক ইলিয়াছ হাবিবকে আটক করা হয়।

এছাড়া দিবাগত রাত ২টার দিকে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানিফ সুপার বাসের আরেক যাত্রী মিজানুর রহমানের দেহ তল্লাশি করে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাকেও ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, পুলিশ পৃথক চারটি অভিযানে মোট ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে পুলিশি পাহারায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি নিশ্চিত করেন।