
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাঁকে হাজির করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে জানান, অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, কার্যকর ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।
দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন ৭৭ বছর বয়সী মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
এরপর বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।
প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা ও বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফর অন্যতম। জিয়াউর রহমানকে হত্যার মুহূর্তে তাঁর কাছাকাছিই ছিলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডের পরপরই মোজাফফর পালিয়ে যান। সে সময় তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
জিয়া হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে সে সময় মেজর এস এম খালেদ এবং মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।