সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য: ডা. কামরুল

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২১ জুলাই ২০২৬ | ৭:০৬ অপরাহ্ন


মা, নবজাতক ও কিশোর-কিশোরীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. কামরুল আজাদ।

তিনি বলেন, সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামের লালখান বাজারস্থ একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

একটি টেকসই ও সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারের (এসআরএইচআর) সাথে পুষ্টির সম্পর্ক তুলে ধরতে এই মিডিয়া সেনসিটাইজেশন কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

‘হেলথ সিস্টেম রেজিলিয়েন্স ফর ইমপ্রুভড এসআরএইচআর ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে যৌথভাবে কর্মশালাটি আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা ‘ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন’ (ইপসা)।

সহযোগী সংস্থা বাপসা ও মমতার সাথে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে কানাডার হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।

কর্মশালায় বক্তারা নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর অপুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও জীবনযাত্রার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (ডিজিএফপি) নিবন্ধিত ‘ঋতুস্রাব নিয়মিতকরণ’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন তারা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় এনজিওগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়া ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

একই সাথে স্থানীয় পর্যায়ে সহপাঠী প্রশিক্ষক বা পিয়ার-এডুকেটর তৈরি করে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাধা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য সংকট ও পুষ্টিহীনতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব পক্ষকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে এসআরএইচআর-এর টিম লিডার শামিমা চৌধুরী তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দেন।

মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিত সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

দুর্যোগকালীন সময়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত কাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য রোধে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেন তারা।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, বাপসার নির্বাহী পরিচালক ড. আলতাফ হোসেন এবং ইপসার পরিচালক নাসিম বানুর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।

কর্মশালায় উপস্থিত বক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা চট্টগ্রামে একটি শক্তিশালী ও সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।