সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ভিডিও কেলেঙ্কারিতে বহিষ্কৃত এমপি নজরুলের পদের ভবিষ্যৎ কী?

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২২ জুলাই ২০২৬ | ১০:১০ অপরাহ্ন


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত’ ভিডিও ভাইরালের জেরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ওই ভিডিও ছড়ানোর পর নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় এখন তার এমপি পদ শূন্য হবে কি না, তা নিয়ে আইনি জটিলতা ও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধান কিংবা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে এ নিয়ে সরাসরি কোনো বিধান নেই। এক্ষেত্রে ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংবিধানের ৬৬, ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান থাকলেও দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই।

আইন অনুযায়ী, কোনো দল নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি চিঠি দিলে কাজ হবে না। দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে বিরোধটি উত্থাপন করতে হবে।

এরপর স্পিকার একটি বিবৃতি প্রস্তুত করে শুনানির জন্য তা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে পাঠাবেন।

কমিশন স্পিকারের চিঠি পাওয়ার চৌদ্দ দিনের মধ্যে পক্ষগুলোকে জানাবে এবং নির্ধারিত সময়ে শুনানি করবে।

এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোড অব সিভিল প্রসিডিউর-১৯০৮ এর অধীনে একটি দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এই কার্যধারা পেনাল কোডের ১৯৩ ধারা অনুযায়ী বিচারিক কার্যধারা বলে গণ্য হবে।

শুনানি শেষে ১২০ দিনের মধ্যে ইসি স্পিকারের কাছে সিদ্ধান্ত জানাবে। কমিশন এমপি পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দিলে সংসদ সচিবালয় পদটি শূন্য ঘোষণা করবে।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জামায়াতের চিঠি তারা এখনও পাননি, তবে গণমাধ্যমে দেখেছেন।

চিঠি আসার পর সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ নাকি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকার থেকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়, সেটি তারা দেখবেন বলে জানান এই কমিশনার।

অতীতেও এমন আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।

২০০০ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত কিশোরগঞ্জ-২ আসনের তৎকালীন এমপি মো. আখতারুজ্জামানকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তখন তার পদ শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে অনুরোধ করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। স্পিকারের চিঠির পর শুনানি শেষে আখতারুজ্জামানের পদ শূন্য ঘোষণা করেছিল ইসি।

২০১৫ সালেও হজ নিয়ে মন্তব্যের জেরে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

তার পদ শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন দলটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ।

এরপর টাঙ্গাইল-৪ আসনের এই এমপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে চিঠি পাঠান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি।

তবে শুনানির পর রায় ঘোষণার ঠিক আগে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিজেই পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে কমিশন সে অনুযায়ী রায় দেয়।