
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্পিকার জানান, বিভিন্ন জটিল রোগের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে অসামর্থ্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।
স্পিকারের কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন।
তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।
তখন উদ্ভূত সাংবিধানিক সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ওই অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ছাত্রনেতারা এবং জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক সংগঠনগুলো বঙ্গভবন ঘেরাওসহ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল।
পরবর্তী সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
সরকার পরিবর্তনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও বিএনপি প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
এই বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তাঁর আগামী রোববার ফেরার কথা থাকলেও থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান এবং বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কথা জানান।
সংবিধানের ৫০ (৩) এবং ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ (২) এবং ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
বর্তমানে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।