সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

অসুস্থ স্ত্রীর পাশে ফেরা হলো না আলমগীরের

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন | প্রকাশিতঃ ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১:১৮ পূর্বাহ্ন


শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলা সদরের নতুন সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল তখনো ব্যস্ত। ভেতরে চিকিৎসাধীন স্ত্রীর পাশে বসে থাকার কথা ছিল মোহাম্মদ আলমগীরের। কিন্তু খবর পেয়ে তিনি ছুটে আসেন হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাওয়া ব্যস্ত মহাসড়ক পার হতে। স্ত্রীর জন্য উদ্বিগ্ন মনে সেই মুহূর্তে তিনি বোঝেননি, সড়কের ওপারে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরেক বিপর্যয়।

মহাসড়ক পার হওয়ার সময় কক্সবাজারমুখী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। আলমগীর ছিটকে পড়েন সড়কে। আর সেখানেই ঘটে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি- তিনি সড়কে পড়ে থাকা অবস্থাতেই পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। একজন মানুষ, একটি সড়ক, আর পরপর দুটি মোটরসাইকেলের আঘাত- এই পরম্পরা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছেও ছিল ভয়ংকর এক মুহূর্ত।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, আলমগীরের স্ত্রী চিকিৎসার জন্য নতুন সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। খবর পেয়ে স্ত্রীকে দেখতে তিনি মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই কক্সবাজারগামী একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। আর পড়ে থাকা অবস্থাতেই পেছন থেকে আসা দ্বিতীয় আরেকটি মোটরসাইকেল তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে গুরুতর আহত আলমগীরকে উদ্ধার করেন।

উল্লেখ্য, আলমগীর নিজেও ওই নতুন সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের সামনে একটি হোটেল পরিচালনা করতেন। এলাকাটি তাঁর কাছে অপরিচিত ছিল না, তবু নিয়তি তাঁকে রেহাই দেয়নি।

উদ্ধারের পর আলমগীরকে প্রথমে নতুন সাউন্ড হেলথ হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রলয় চৌধুরী জানান, আহত ব্যক্তির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাঁকে দ্রুত পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে, উন্নত চিকিৎসার আশায়।

তবে শেষ পর্যন্ত জীবনের সঙ্গে যুদ্ধে হার মানতে হলো আলমগীরকে। একই রাতে, প্রায় ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের ভাগনে মোহাম্মদ রিদুয়ান জানান, চমেকের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নিহত আলমগীর (৫০) উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের তজু মুন্সির গ্যারেজ এলাকার বাসিন্দা। এদিকে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, তিনি সরকারি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিনকে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগীর মৃত্যু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হয়েছে বলে, সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্ত্রীর অসুস্থতার খবরে ছুটে যাওয়া একজন স্বামী, যিনি নিজেই কখনো ভাবেননি সড়কটাই তাঁর জন্য শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে- এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল লোহাগাড়ার এই মহাসড়ক অংশের ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রের কথা।