
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ধসে গেছে।
কেরানিহাট–হাঙ্গরমুখ নামের এই সড়কের বড় অংশ বিলীন হওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে উপজেলার ঢেমশা, নলুয়া, আমিলাইশ ও চরতী ইউনিয়নের অন্তত এক লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কার্তিকের দোকান থেকে পূর্ব পাশের মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার সড়ক ধসে গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশজুড়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পিচঢালা সড়কের কোনো অস্তিত্বই নেই।
প্রবল স্রোতে রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে দুই পাশ ধসে পড়েছে এবং কিছু স্থানে ইট পাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাঙা অংশে পানি জমে ছোট পুকুরের মতো আকার ধারণ করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।
সড়কটির একটি বড় অংশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে যেতে তাঁদের আনুফকিরের দোকান হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে।
এতে মানুষের সময়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে প্রতিদিন স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ জানান, এই সড়কটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের জীবনরেখা।
বিশাল অংশ ভেঙে পুকুরের মতো গর্ত হওয়ায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাধ্য হয়ে প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে মহাসড়কে যেতে হচ্ছে, যাতে রোগী ও কর্মজীবীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে।
তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেন।
পরিদর্শন শেষে শাহজাহান চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন সড়ক ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কেরানিহাট–হাঙ্গরমুখ সড়কটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে জানান, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সড়কটির বড় অংশ ধসে গেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যায় কেরানিহাট–হাঙ্গরমুখ সড়কের এই অংশের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি।
তাই দ্রুত যান চলাচলের ব্যবস্থা এবং পরে টেকসই নকশায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তাঁরা মনে করেন।