
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ঐতিহাসিক রুপাইখাল ও রঙিখাল থেকে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর শত একর সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরীর নেতৃত্বে চার দিনব্যাপী এই অভিযানে অন্তত ২১টি কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল প্রবাহমান খালে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখল নিয়ে চিংড়ি ঘের গড়ে তুলেছিল।
এর ফলে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।
বর্ষা মৌসুমে মগনামা ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি চিংড়ি ঘের, লবণমাঠ ও ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছিল।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে খনন করা রুপাইখাল ও রঙিখালের গভীরতা ছিল প্রায় ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ছিল প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট।
একসময় খাল দুটি উন্মুক্ত ও প্রবাহমান ছিল এবং স্থানীয় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ এসব খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
প্রবীণদের দাবি, অতীতে ঐতিহাসিক এই খাল দুটিতে কুমিরেরও বসবাস ছিল।
বর্তমান অভিযানে বাঁধ অপসারণের পাশাপাশি কংক্রিটের পিলার, গাছের খুঁটি এবং মাছ ধরার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।
এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত হয়ে খাল দুটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে।
অভিযান চলাকালে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন এবং মোকতার আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
একই সঙ্গে পেকুয়া থানার পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও অবৈধ দখল ও বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে মানুষ জিম্মি থাকবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
সবকটি বাঁধ অপসারণ করা হলে মানুষের সীমাহীন কষ্ট ও দুর্ভোগ কমে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।