সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদর দপ্তর বিতর্ক: ফটিকছড়িতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালে কতটা জনভোগান্তি?

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে তিন ইউনিয়নে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে।

রোববার সকাল থেকে উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে এই হরতাল পালিত হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই রাতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে একই দাবিতে গত ১৬ জুলাই উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছিলেন।

রোববার সকালে দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও বাগানবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে থমথমে পরিবেশ দেখা যায়।

গহিরা-হেয়াকো সড়ক এবং ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে হরতাল সমর্থকদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

তবে হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।

শান্তিরহাট ও দাঁতমারা বাজার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলনকারীদের সড়কে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতেও দেখা যায়।

আন্দোলনকারী শফিউল আজম চৌধুরী জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে।

আরেক আন্দোলনকারী হাসান শামসুদ্দীন জানান, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ জানান, ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে দপ্তর স্থাপন করতে হবে।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তাঁরা কাজ করছেন এবং বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।