সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধে সাংবাদিকদের আরও অনুসন্ধানী হওয়ার তাগিদ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৬ জুলাই ২০২৬ | ৮:৩৭ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধ মানবপাচার প্রতিরোধ এবং এর মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রোববার টেকনাফের সেন্ট্রাল রিসোর্টের সম্মেলন কক্ষে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধবিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে টেকনাফ ও উখিয়ার ৪২ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় অভিবাসনের বর্তমান প্রবণতা ও সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ মানবপাচারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান।

তিনি জানান, মানবপাচার ও মাদকের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা মানুষকে সচেতন করে এবং নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা ছড়িয়ে দেয় বলেও তিনি জানান।

কর্মশালায় পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার মানবপাচারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব তুলে ধরেন।

তিনি জানান, মানবপাচার থেকে রাষ্ট্র লাভবান হয় না, বরং এতে পাচারকারীদের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। মানবপাচার প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা বলেন, টেকনাফ মানবপাচারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সমুদ্রপথে মানবপাচারের ঘটনাগুলো সাহসিকতার সঙ্গে অনুসন্ধান করে তুলে ধরার ওপর তিনি জোর দেন।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কক্সবাজার সমন্বয়কারী (লিগ্যাল সার্ভিস) বিশ্বজিৎ ভৌমিক কক্সবাজারের মানবপাচারসংক্রান্ত মামলাগুলোর চিত্র তুলে ধরেন।

এ সময় মানবপাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা টেকনাফের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাবের নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

একই দিন বিকেলে টেকনাফে ‘সমুদ্রপথে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক পৃথক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোমেনা আক্তার সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের বাহিনীর পাশাপাশি মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম টেকনাফকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ‘রেড জোন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ অঞ্চলে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দমনে তিনি সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় কক্সবাজারের উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান এবং র‍্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।