সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধনে কেন ইসলামী ব্যাংক কর্মীদের বিক্ষোভ?

আনোয়ারা-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১:৫৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইজেড) উদ্বোধনের দিনে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা।

সোমবার সকালে সরকারের অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নিজেদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দাবিদাওয়া জানাতে এই প্রতিবাদের ডাক দেন তাঁরা।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের চায়না রোড এলাকায় হাজারো চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়ো হতে থাকেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

কোনো ধরনের আগাম নোটিশ, কারণ দর্শানো বা ব্যাংকিং নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই তাঁদের একযোগে বরখাস্ত করা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।

তাঁদের আরও অভিযোগ, ব্যাংকের ভেতরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের পছন্দের লোকজনকে বড় পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দিচ্ছে।

বিক্ষোভ থেকে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে পেশাদার ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত নতুন বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়।

একইসঙ্গে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মীকে সসম্মানে তাঁদের কর্মস্থলে পুনর্বহালের আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভের অন্যতম সমন্বয়ক মো. এমদাদ হোসেন জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যখন চট্টগ্রামে এত বড় একটি কর্মসংস্থানমূলক মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন করতে এসেছেন, তখন হাজার হাজার ব্যাংক কর্মী কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও তাঁরা চাকরি হারিয়ে রাজপথে অবস্থান করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মো. এমদাদ হোসেন।

এই চরম বৈষম্য ও নিজেদের যৌক্তিক দাবি সরাসরি সরকারের শীর্ষ মহলের নজরে আনতেই তাঁরা সেখানে সমবেত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সরকারের অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণে এলাকাটি আগে থেকেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ছিল।

বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনুষ্ঠানস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পুলিশ দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ভিআইপি সফর ও জননিরাপত্তার স্বার্থে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।