সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদর দপ্তর নিয়ে বিতর্ক: ফটিকছড়িতে কেন এই টানা হরতাল?

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৭ জুলাই ২০২৬ | ২:২৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে।

আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে সর্বাত্মকভাবে এই হরতাল পালিত হচ্ছে।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে এই কর্মসূচি চলছে।

এর আগে গত ২১ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ২৬ জুলাই থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

একই দাবিতে গত ১৬ জুলাই উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছিলেন।

আমি সোমবার সকালে দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও বাগানবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি, বাজারগুলোতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

গহিরা-হেয়াকো সড়ক এবং ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এর ফলে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা এবং অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে হরতাল সমর্থকদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

তবে হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেছেন।

শান্তিরহাট ও দাঁতমারা বাজার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আমি আন্দোলনকারীদের সড়কে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতেও দেখেছি।

আন্দোলনকারী ও ব্যাংকার হাসান শামশুদ্দিন জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে।

তিনি জানান, এর আগে ১৬ জুলাই সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করলেও এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যায়নি।

আরেক আন্দোলনকারী আবু তাহের জানান, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ জানান, ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে দপ্তর স্থাপন করতে হবে।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে এবং টহলে ছিল স্পেশাল ফোর্সও।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, হরতালের কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্বিতীয় দিনের মতো তাঁরা মাঠে কাজ করছেন।

তিনি জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।