
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সচিব ও বিএসটিআই মহাপরিচালককে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। আদেশের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার দায়ের করা এই রিট আবেদনে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিবাদী করা হয়।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে রিটটি করা হয়। রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিও কার্যালয়ে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত এসব টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই এই ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ।