
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান বলেছেন, পুলিশ আর কারও লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। পুলিশ এখন থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচবে এবং জনগণের ইচ্ছাতেই পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার নবগঠিত মাতামুহুরী এলাকার বদরখালীতে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিং জোরদার করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশকে অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। চকরিয়া বা মাতামুহুরীর মানুষ অস্ত্র তৈরি করে না, মহেশখালীর মানুষ অস্ত্র তৈরি করে। তাই মহেশখালী থেকেই প্রথমে অস্ত্র তৈরি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বদরখালী এলাকাকে একটি বাণিজ্যিক হাব উল্লেখ করে তিনি এখানে দ্রুত একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে জেলায় পুলিশের জনবল বাড়েনি। তবে সীমিত লোকবল নিয়েই বদরখালীতে ছোট পরিসরে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, অনলাইন জুয়া দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলার ২০ জন উপপরিদর্শক বা সাব-ইন্সপেক্টরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্যই সরকার তাকে পাঠিয়েছিল বলে জানান সাজেদুর রহমান। তিনি দাবি করেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি জেলায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কাজ করছেন। তার হাত ধরেই একটি শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী গঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সভাপতি সরওয়ার আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একই সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান পিপিএম, সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাশ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি মো. আরিফুর রহমান এবং পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বদরখালী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সম্পাদক মঈনুদ্দিন, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, বদরখালী কলোনিজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল কাদের বাবুল, বদরখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আলী মোহাম্মদ কাজল, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
এর আগে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বদরখালী কলোনিজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং বাল্যবিয়ে বন্ধে আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।