সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী আসেন দেরিতে, যান আগেভাগে

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৩০ জুলাই ২০২৬ | ৮:০৩ অপরাহ্ন


গত মে মাসে ব্রিক সলিং কাজের বিল ছাড়ের জন্য ফাইল তৈরি করেছিলেন ফটিকছড়ির এক দ্বিতীয় শ্রেণির ঠিকাদার। ফাইল তৈরি, কাগজপত্র ঠিক— শুধু দরকার উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষর। কিন্তু স্বাক্ষর হচ্ছে না। আজ হবে, কাল হবে— এই অপেক্ষায় কেটে গেছে দুই মাস।

ঠিকাদার বললেন, “এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ ঠিকাদারেরা ভবিষ্যতে কোনো টেন্ডারেই অংশ নেবেন না।”

এই একটি ঘটনাই বলে দেয় ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের চিত্র।

সকাল সাড়ে দশটায় তালা, দুপুর সাড়ে বারোটায়ও নেই

সরেজমিন দেখা গেছে, গত বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটায় এবং বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। কক্ষে তালা। কর্মচারীরা জানালেন, “ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বাইরে আছেন।” কোথায় গেছেন, কখন ফিরবেন— সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

অফিস সময় শুরু হওয়ার কথা সকাল ৯টায়। কিন্তু সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবসার চৌধুরী প্রায়ই বেলা ১১টার পরে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। জরুরি ফাইলে স্বাক্ষর মেলে না, প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাওয়া যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম শ্রেণির এক ঠিকাদার বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের দেখা পাওয়া যেন ভাগ্যের বিষয়। যখনই আসি, শুনি তিনি ফিল্ডে অথবা মিটিংয়ে। সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময়ে তাঁকে কক্ষে না পাওয়াটা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা।”

প্রকৌশলীর দাবি সব ঠিক আছে, ইউএনও বললেন খতিয়ে দেখব

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবসার চৌধুরী বলেন, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে মিটিং করতে হয়, উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে দেখতে হয়। সেবা পেতে ভোগান্তির কথা সঠিক নয়। অফিস ফাঁকি বা দেরির অভিযোগ অবান্তর, তিনি নিয়মিত অফিসেই থাকেন।

কিন্তু সরেজমিন দেখা যাওয়া তালাবদ্ধ কক্ষ, দুই মাস ধরে আটকে থাকা বিলের ফাইল আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা সেবাপ্রার্থীরা ভিন্ন কথা বলছেন।

ফটিকছড়ির ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। কারণ খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দূর থেকে এসে খালি হাতে ফেরা মানুষ, দুই মাস ধরে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা ঠিকাদার— এই মানুষগুলোর ভোগান্তি কমাতে হলে শুধু আশ্বাস নয়, দরকার কার্যকর পদক্ষেপ।