
যাত্রীসেবা আধুনিকায়নে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে চলতি মাসেই এই রুটে চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস।
শনিবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের লালব্রীজ এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এসব তথ্য জানান।
এই রুটে নতুন আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন আইকনিক স্টেশনটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। এটি বেসরকারি খাতে পরিচালনা করা কতটা বাস্তবসম্মত এবং যাত্রীসেবার মান কতখানি উন্নত করা সম্ভব, মূলত সেটি যাচাই করতেই তাদের এই সফর।
স্টেশনের বিদ্যমান সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেলপথ নির্মাণের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছিল।
সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে রোপণ করা গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা তিনি পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি রেলপথের দুই পাশে নতুন করে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের জায়গা চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে খুব শিগগিরই ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
এর ফলে চকরিয়াসহ আশপাশের যাত্রীরা খুব সহজেই চট্টগ্রামে পৌঁছে রাজধানীমুখী ট্রেনগুলোর সঙ্গে ট্রানজিট সংযোগ তৈরি করতে পারবেন।
কক্সবাজার রেলপথে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রী ও রেল সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের বিষয়েও কথা বলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তায় চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ এই লাইনের সব ছোট-বড় স্টেশনে আধুনিক আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে পুলিশের বা জিআরপির টহল বাড়ানো এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ব্রিফিংকালে রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক বা জিএম সবুক্তগীন মাহমুদ এবং কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বা পিডি এরশাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও শাহীন দেলোয়ার এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি মোঃ আরিফুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার এবং হারবাং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মেম্বার রুবেল সিকদারসহ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিং শেষে বিকেলে চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা রেলপয়েন্ট পরিদর্শন করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর কাছে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও বাঁশখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী হারবাং রেল স্টেশনের বদলে সহজ যোগাযোগস্থল চকরিয়ার মছনিয়াকাটা এলাকায় রেল স্টেশন নির্মাণের দাবি তুলে ধরেন সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার।
স্থানীয়দের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মছনিয়াকাটা রেল স্টেশন নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন বাড়ানো হলে পর্যটন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।