সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পর্যটকের মৃত্যুতে কক্সবাজারে প্যারাসেলিং বন্ধে আইনি নোটিশ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৪ অগাস্ট ২০২৬ | ৬:০৭ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের হিমছড়িতে প্যারাসেলিং করার সময় ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর জেরে সমুদ্র সৈকতে অনিরাপদ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের জন্য কঠোর নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

গত ১ আগস্ট কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেলিং করার সময় ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনাকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, এটি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দেয়। এর দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং মানসম্মত যন্ত্রপাতি ছাড়াই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্যারাসেলিং পরিচালিত হচ্ছে। একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্যারাসেলিং পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন ছিল না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটক ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দুর্ঘটনাটি তাদের অগোচরে ঘটেছে।

তবে নোটিশে বলা হয়েছে, প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চলতে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ। এতে ভবিষ্যৎ পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে মোট আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পরিচালিত সব ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের লাইসেন্স ও অনুমোদন যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ট্যুরিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করা এবং নিহত পর্যটকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি দরিয়ানগরের ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে প্যারাসেলিংসহ সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নির্দেশিকা এবং একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়ন ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবিও নোটিশে রাখা হয়েছে।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা উল্লেখ করেছেন।