সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিতে সমঅধিকার ও গবেষণার তাগিদ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৮ অগাস্ট ২০২৬ | ৭:১০ অপরাহ্ন


পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হসপিটালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন: বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং টেকসই সমাধান’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেল।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী জানান, জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে আবেগ বা বিভাজনের পরিবর্তে সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং তথ্যভিত্তিক গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ।

তিনি উল্লেখ করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নাগরিকত্ব কোনো জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না জানিয়ে তিনি আধুনিক রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে সমঅধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিভিন্ন বিষয় পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের সমন্বয়ক মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন অধ্যক্ষ এম এ আমিন ও মোনতাহিনা জান্নাত স্বর্ণা।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন ১০৭ এবং ১৬৯-এর আলোকে উপজাতি ও আদিবাসী শব্দের আইনি পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন।

তাঁর মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে আদিবাসীর পরিবর্তে উপজাতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং তাদের ঐতিহাসিক অভিবাসন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের উপদেষ্টা তৌহিদুল ইসলাম, সিসিপিসির সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মরুফ আহমেদ, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও সাংবাদিক আবু বকর ছিদ্দিক এবং সাংবাদিক কামাল পারভেজ।

তৌহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।