সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ৯ অগাস্ট ২০২৬ | ৪:৫৯ অপরাহ্ন


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশের শান্তি নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মাঝে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটি মহাপরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

বিগত সরকারের সময়ে এই খাতটি গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের স্বার্থে খাতটিকে নতুন করে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কারখানা তৈরি হলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

এর আগে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বন্যাকবলিত বাহারছড়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে টিনের ছাউনি দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা জানান তারেক রহমান।

এর মধ্যে বাঁশখালী এলাকায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই কার্ড পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুধু ফসল চাষিরাই নন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এছাড়া বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাবি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে যান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ঘিরে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতে মানুষের ঢল নামে।

এই বিপুল জনতার ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়ে পালকিতে বসা আলিফা আক্তার নামের এক শিশু।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভক্ত এই ছোট্ট শিশুটি তার মা-বাবার সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছিল।

ভিড়ের মধ্যে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ায় এবং হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা তাকে একটি সুসজ্জিত পালকিতে তুলে নেন।

চোখে কালো রোদচশমা এবং পরনে সাদা-লাল শাড়ি পরা শিশুটি পালকিতে বসে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে অভিবাদন জানায়।

রাজনৈতিক এই ব্যস্ত কর্মসূচির মাঝে শিশুটির এমন উপস্থিতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে।