
‘একুশে পত্রিকা’য় সংবাদ প্রকাশের পর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে দেশে পৌঁছেছে সৌদি প্রবাসী সাইফুল মিয়ার মরদেহ।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার এই বাসিন্দার মরদেহ দেশে ফেরা নিয়ে তাঁর পরিবার একপ্রকার হাল ছেড়ে দিয়েছিল।
গত ১৮ জুলাই একুশে পত্রিকায় ‘একটিবার ছেলেকে দেখার আকুতি, তবু ফেরে না লাশ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এই সংবাদের পর সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিষয়টি নজরে আসে এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর তৎপরতা শুরু হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষে গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাইফুলের কফিন পৌঁছায়।
ওই দিন রাত দশটায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম মিরসরাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্যম তালবাড়িয়া গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবের তায়েফে গিয়ে ছাগল পালনের কাজ নেন।
গত ১৯ জুন রাতে ঘুমের মধ্যে সাইফুল মারা যান।
ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠালেও মরদেহ দেশে আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল না এবং লাশ তায়েফের একটি হাসপাতালে রাখা ছিল।
তায়েফে বসবাসরত মিরসরাইয়ের বাসিন্দা আহসান উল্লাহ মিলন এবং মো. আরাফাত জানান, এক মাস পার হলেও তাঁরা মৃত্যুর খবরটি জানতেন না।
একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে এবং তাঁরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
সাইফুল মিয়ার বোন আসমা আক্তার জানান, ভাইয়ের মরদেহ দেশে আসা নিয়ে তাঁরা হতাশ ছিলেন।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অনেকের নজরে আসায় ভাইকে শেষবারের মতো দেখতে পারার কথা জানিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আজ সাইফুলের কুলখানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানান।
সাইফুলের বাবা মো. কবির হোসেন শেষবারের মতো একমাত্র ছেলের মুখ দেখতে পাওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও সোমাইয়া আক্তার জানান, প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা নিয়ে বিড়ম্বনা থাকলেও পরে অনেকের সহযোগিতায় তা দেশে আসায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।