সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে ৯ মৃত্যুতে বেলার আইনি নোটিস

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | ১০:৩২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিস দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বা বেলা।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আদালত অবমাননার বা কনটেম্পট নোটিসও দিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার বেলার পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়কারী তাসলিমা ইসলাম এই নোটিস পাঠান।

বেলা চট্টগ্রামের সমন্বয়ক মুনীরা পারভীন রুবা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নোটিসে শিল্প, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ একাধিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রায় অবজ্ঞার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নোটিসে আগামী তিন দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

তা না হলে ইয়ার্ড মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বেলা।

নোটিস পাওয়া অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

পাশাপাশি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহসীন চৌধুরী এবং ফেরদৌস স্টিলের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদকেও বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিসে ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে কালো তালিকাভুক্ত দেশ থেকে জাহাজ আমদানির অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে যে শিপইয়ার্ডটি আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানেনি।

বেলার অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতি ও তদারকির অভাবেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ইয়ার্ডে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ছয়বার একই ধরনের দুর্ঘটনায় অন্তত তিন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত ও আহত শ্রমিকদের অধিকাংশই নতুন ছিলেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে কোনো সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই কর্মরত ছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

নোটিসে জানানো হয়, জাহাজভাঙা কার্যক্রম নিয়ে উচ্চ আদালত জাহাজ কাটার আগে ‘গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেট’ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

এসব নির্দেশনা সত্ত্বেও শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ইয়ার্ড মালিকেরা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা আদালত অবমাননার শামিল বলে বেলার দাবি।

দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে বেলা প্রশ্ন তুলেছে।

সংস্থাটির মতে, স্বার্থের সংঘাত থাকায় এসব কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

তাই বেলা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার দাবি জানিয়েছে।

নোটিসে ২০১০ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ওই ইয়ার্ডে ঘটা সব মৃত্যুর ঘটনায় আট দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, ইয়ার্ড বন্ধ ও অনুমোদন বাতিল, লাইসেন্স বাতিল, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্ট জব্দ করা।