সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বেপজার নিরাপত্তাকর্মীদের পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার চার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ২:১৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা সিইপিজেড এলাকায় বেপজার নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চুরির চেষ্টাকালে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে গাড়ি ভাঙচুর ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আমিনুল উল রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে সিইপিজেড এলাকার মেসার্স তারিক আজিম টেক্সটাইল লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে একদল চোর প্রবেশ করে।

খবর পেয়ে টহল টিমের ইনচার্জ ও সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আ.ব.ম নাজির হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

এই দলে ছিলেন নিরাপত্তাক্ষী রবিউল ইসলাম ও আব্দুল খালেক এবং আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম ও মো. জাকির।

নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরেরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে ২৪ বছর বয়সী আসলাম শেখকে আটক করা হয়।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আটক আসলামকে সরকারি পিকআপযোগে সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার পথে বিডি অ্যাপারেলসের গেটের সামনের সড়কে ৩০ থেকে ৪০ জন সহযোগী গাড়িটির গতিরোধ করে।

সেখানে তারা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আসলামকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় ১৮ আগস্ট বেপজার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও এস্টেট) পাপ্পু দে বাদী হয়ে ইপিজেড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসলাম শেখ ছাড়াও ৩২ বছর বয়সী আব্দুল কাইয়ুম, ৩৮ বছর বয়সী মো. রাশেদ, ২৯ বছর বয়সী মো. রাসেল আলামিন এবং ২৭ বছর বয়সী মো. শাহ জালালকে আসামি করা হয়।

পাশাপাশি ২৬ বছর বয়সী মো. রাকিব, ২৭ বছর বয়সী মো. আলাল খাঁন, ২৪ বছর বয়সী আকাশ বিশ্বাস ও ৩৪ বছর বয়সী মো. সবুজ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর ইপিজেড থানার ওসি মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক বা এসআই আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী অভিযান পরিচালনা করেন।

১৯ আগস্ট দিবাগত রাত বারোটা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসলামসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।