
চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে মেগা প্রকল্পগুলোর ঠিকাদারদের কাছে ‘সমন্বয়ের’ নামে চাঁদা দাবি এবং তা না দিলে বিগত সরকারের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসের মধ্যে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এর পাশাপাশি ইউনাইটেড পাওয়ার প্লান্ট এবং কোরিয়ান ইপিজেড বা কেইপিজেডসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে।
তবে এসব প্রকল্পে যুক্ত দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে চরম নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট উন্নয়নমূলক কাজ শুরুর আগে ঠিকাদারদের কাছে গিয়ে সমন্বয় করে কাজ করার প্রস্তাব দেয়।
এরপর নানা অজুহাতে তারা কাজের লভ্যাংশের বড় একটি অংশ, এমনকি পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব দাবি করে বসে।
এই দাবিতে রাজি না হলে কাজে বাধা সৃষ্টি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি এবং পথ অবরোধ করে মারধরের ঘটনা ঘটাচ্ছে চক্রটি।
সম্প্রতি ইউনাইটেড পাওয়ার প্লান্টের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেনের কাছে চক্রটি লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিন্ডিকেটের লোকজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এফ এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন জানান, চাঁদা না দিলে চক্রটি তাঁদের বিগত সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করছে, যার ফলে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একই প্রকল্পের পুরাতন স্থাপনা ভাঙার সাব-ঠিকাদার হেলাল উদ্দীন জানান, কাজ শুরুর পর থেকেই সিন্ডিকেটটি তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে।
চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় না হওয়ায় তিনি ভয়ে এসব সহ্য করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দোসর কার্ড ব্যবহার করে ঠিকাদারদের ওপর হামলা একটি ফৌজদারি অপরাধ।
তিনি মনে করেন, এই সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়বে।
অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশ্লেষক ড. মাশরুর রহমান মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছেন, তখন এমন চাঁদাবাজি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তাঁর মতে, আনোয়ারা-কর্ণফুলীর উন্নয়নযজ্ঞকে বাঁচাতে হলে এই সমন্বয় সিন্ডিকেটকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
এই অবস্থায় মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ নির্বিঘ্ন করতে অবিলম্বে চাঁদাবাজ চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীর বিশেষ টাস্কফোর্স বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।