সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টায় বাবা-ছেলের কারাদণ্ড

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৭:৫১ অপরাহ্ন


টেকনাফে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টায় দায়ের করা মামলায় এক সাবেক ইউপি সদস্য ও তাঁর বাবাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মাত্র সাত কার্যদিবসে বিচারকাজ শেষে বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আব্দুল্লাহ এবং তাঁর বাবা আবুল বশর।

রায়ে মো. আব্দুল্লাহকে চার বছর এবং আবুল বশরকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের সময় আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন জানান, মাত্র সাত কার্যদিবসে নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. আব্দুল্লাহকে চার বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ছেলেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাবা আবুল বশরকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল মো. আব্দুল্লাহর নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক।

নির্ধারিত সাত কার্যদিবসে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং পরবর্তীতে সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি।

দুদকের অনুসন্ধানে আব্দুল্লাহর নামে মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার ৬৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায় মাত্র ১০ লাখ টাকা।

ফলে এক কোটি ২৩ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।

অন্যদিকে, আবুল বশরের বিরুদ্ধে ছেলেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

২০১৬ সালের ২ নভেম্বর টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিলের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা দিয়ে একটি জমি কেনেন আবুল বশর।

এর মাত্র তিন মাস পর ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ওই জমি তিনি তাঁর বড় ছেলে আব্দুল্লাহকে হেবা বা দান করেন।

এর মাধ্যমে বাবা ও ছেলে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করেন বলে দুদক প্রমাণ পায়।

আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৭ সালে প্রথম অনুসন্ধান শুরু হয়।

পরে ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয় দুদক এবং ওই বছরের ১০ আগস্ট চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ জুন বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছিল।