
ক্যান্সার নিরাময়ে রোগ শনাক্তের পর প্রথম তিন মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময়ের মধ্যে রোগ ধরা পড়লে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বা সিআইএমসিএইচ এবং চীনের মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতাল গুয়াংঝুর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়।
সিআইএমসিএইচের এক নম্বর অডিটোরিয়ামে ‘ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস, আর্লি ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অনকোলজি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতাল গুয়াংঝুর অনকোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট চিফ ফিজিশিয়ান ডা. উ ওয়েই।
তিনি তাঁর প্রবন্ধে ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্ক্রিনিংয়ের আধুনিক পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিআইএমসির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন সবুজ।
তিনি জানান, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া তাঁদের লক্ষ্য এবং চীনের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআইএমসির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ টিপু সুলতান এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আকরাম পারভেজ চৌধুরী।
পাশাপাশি সিআইএমসিএইচের পরিচালক ডা. অং সুই প্রু মারমা এবং সিআইএমসির উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিমা আক্তার সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
চীনের মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতাল গুয়াংঝুর বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি ম্যানেজার এমিলি সাই এবং সার্ভিস সেন্টার ম্যানেজার ফেলিক্স লিন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সিআইএমসির গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক, চিকিৎসক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বক্তারা জানান, ক্যান্সারের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ এবং এর প্রথম শর্ত হলো সচেতনতা।
তাঁরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ধূমপান ও তামাক বর্জন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সিআইএমসিএইচ এবং মডার্ন ক্যান্সার হাসপাতাল গুয়াংঝুর এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আরও সহজে বিশ্বমানের অনকোলজি সেবা পেতে পারবে।
সেমিনারের শেষে সিআইএমসিএইচ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।