সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

শিশুর প্রাণ নেওয়া কুমির ধলাপাহাড় এখন চকরিয়ার সাফারি পার্কে

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৭:৩৭ অপরাহ্ন


বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে এক শিশুর প্রাণ কেড়ে নেওয়া ‘ধলাপাহাড়’ নামের কুমিরটি নতুন ঠিকানায় গিয়ে খাবার খাচ্ছে না।

গত ১২ আগস্ট বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আনা হয়েছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১ জুন রাতে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে আট বছর বয়সী ফাতেমা নামের এক শিশু কুমিরের আক্রমণে মারা যায়।

পরদিন ভোরে দিঘির পানিতে শিশুটির লাশ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়। এর আগে কুমিরটি একটি কুকুরকেও আক্রমণ করে হত্যা করেছিল বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।

শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে ৩ জুন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, সেখানে কোনো প্রাণী দীর্ঘদিন রাখার সুযোগ নেই।

তাই বৃহত্তর আবাসস্থলের কথা বিবেচনা করে ঢাকার বন সংরক্ষক, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলে একটি জরুরি পত্র পাঠানো হয়।

সেখানকার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই কুমিরটিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন আবাসে ধলাপাহাড় ভালোই আছে।

সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মঞ্জুরুল আলম জানান, পার্কে আনার পরদিন কুমিরটিকে খাবার দেওয়া হলেও সে খায়নি।

নিয়ম অনুযায়ী গত সোমবারও কুমিরের বেষ্টনীতে খাবার দেওয়া হয়, তবে কুমিরটি তা মুখে তোলেনি।

তিনি আরও জানান, ধলাপাহাড়কে নিয়ে পার্কে বর্তমানে মোট ১৩টি কুমির রয়েছে, যার মধ্যে আটটি লোনাপানির ও পাঁচটি মিঠাপানির।

সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণী চিকিৎসক ও ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খাবার না খেলেও নতুন পরিবেশের সঙ্গে কুমিরটি মানিয়ে নিচ্ছে।

তার চলাফেরা, সাঁতার কাটা ও বিশ্রাম নেওয়ার মতো স্বাভাবিক গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই প্রাণী চিকিৎসক জানান, কুমির ঠান্ডা রক্তের প্রাণী হওয়ায় প্রয়োজনে নিজের শরীরে জমে থাকা চর্বি থেকেও শক্তি পায়। খাবার ছাড়া একটি কুমির তিন থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাদি কুমির ধলাপাহাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় সাত থেকে আট ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি।

২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে আনা ছয়টি কুমিরের মধ্যে শেষ পর্যন্ত এই মাদি কুমিরটিই টিকে ছিল।