সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় গ্রাম আদালতের বিচার ফেসবুকে, গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৭:৪০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের বিচার কার্যক্রম ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা এবং গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের সংবেদনশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির সময় বিচার কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করে তা সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হচ্ছে।

এতে বিচারপ্রার্থী এবং প্রতিপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চেহারা ও ব্যক্তিগত বক্তব্য সবার সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের সামাজিকভাবে হেয় বা বিব্রত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিচারপ্রার্থী জানান, মানুষ সমস্যার সমাধানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যায়।

কিন্তু সেখানে বিচারের নামে কী বলা হচ্ছে, তা যদি ফেসবুকে সবাই দেখে, তবে ব্যক্তিগত বিষয় আর গোপন থাকে না এবং মানুষ বিচার চাইতেও ভয় পাবে বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হলো মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বিরোধ নিষ্পত্তি করা।

কিন্তু বিচার কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হলে তা বিচারপ্রার্থীদের কাছে কেবল প্রচারণার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

গ্রাম আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

তবে কোনো পক্ষের সম্মতি ছাড়া তাদের ছবি বা বক্তব্য প্রকাশ করাকে আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর সেটি শেয়ার ও পুনঃপ্রচার হতে পারে। ফলে সৃষ্ট সামাজিক ক্ষতি পরবর্তী সময়ে আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।

বিচার কার্যক্রমের ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরের নিরপেক্ষতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি নিজেই বিচারকার্যের ভিডিওর নির্বাচিত অংশ ফেসবুকে প্রকাশ করলে জনমত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং অন্য পক্ষের ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টি হয়।

একজন স্থানীয় আইনজীবী জানান, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা ও গোপনীয়তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিডিও প্রচারের আগে আইন, বিধিমালা এবং ব্যক্তির সম্মতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে সহজ, দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা।

ইউএনও আরও জানান, বিচারপ্রার্থীদের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

বিচার কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার কোনো সুযোগ নেই এবং এমনটা করা হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।