সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

একুশে পত্রিকায় সংবাদের পর সেই এসআই ক্লোজড

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | ৬:১৮ অপরাহ্ন


মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে বাঁশখালীতে এক ক্ষুদ্র খামারির কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ ওঠায় রামদাস হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন কবির মৃধাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের আদেশে তাকে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এর আগে, শুক্রবার সকালে একুশে পত্রিকায় এসআই সুমন কবির মৃধার ঘুষ দাবির বিষয়টি নিয়ে একটি বিশেষ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

জানা গেছে, মামলার তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে দিনমজুর নুরুল আলমের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ফেরত না দিয়েই বাঁশখালী ছেড়েছেন এসআই সুমন কবির মৃধা।

টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ক্লোজড হয়েছেন এবং গাড়িতে করে চট্টগ্রাম চলে যাচ্ছেন। গাড়ি থেকে নেমে টাকার বিষয়টি সমাধান করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

এসআই সুমন কবির মৃধাকে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান।

তিনি জানান, প্রকাশিত সংবাদটি আমলে নিয়ে এসপি স্যার তাকে ক্লোজড করেছেন। এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলেও যেহেতু তিনি ক্লোজড হয়েছেন, তাই এসপি স্যারের নির্দেশে এ বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত হবে।

এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর মামলার বাদী নুরুল আলমকে ফোন করে প্রতিবেদককে বোঝানোর জন্য অনুরোধ করেন অভিযুক্ত এসআই।

এ সংক্রান্ত ১০ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ডে সুমন কবির মৃধাকে বলতে শোনা যায়, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদককে বিষয়টি সমাধান করার কথা বলতে।

নুরুল আলম এসআইকে জানান, তিনি কোনো অন্যায় না করেও সঠিক রিপোর্টের আশায় টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

উত্তরে এসআই সুমন বলেন, তিনি জোরাজুরি করেননি এবং রিপোর্ট দিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, খামারি নুরুল আলমের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদকের কাছে ফোন করে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন এসআই সুমন কবির মৃধা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাঁশখালীর চন্দ্রপুর গ্রামের বরপুরা এলাকায় জামশেদ এক্সপ্রেস ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্মের মালিক নুরুল আলমের খামারে গত ৭ জুলাই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে।

চুরির ঘটনায় গত ২৬ জুলাই বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পান এসআই সুমন কবির মৃধা।

নুরুল আলমের অভিযোগ, মামলা করার পর তাকে ‘পিউরিয়া’ নামের একটি দোকানে ডেকে নিয়ে নাশতা ও গাড়িভাড়ার কথা বলে ২ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করেন ওই এসআই।

এরপর গত ২৬ আগস্ট মামলার তদন্ত করতে খামারে গিয়ে ওসির কথা বলে তিনি আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করেন, যার মধ্যে নুরুল আলম ৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই সুমন কবির মৃধা বলেছিলেন, মামলার রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কিছু খরচ থাকে। তবে তিনি জোর করে টাকা নেননি বলে দাবি করেছিলেন।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেবেন বলে জানান।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক ওসির নাম ব্যবহার করে টাকা আদায়ের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অনেকেই ওসির নাম ভাঙায়।

তিনি দ্রুত মামলার রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেবেন এবং পারফরম্যান্স খারাপ থাকলে তাদের চাকরি নিয়ে সংশয় রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই সুমন কবির মৃধার বিরুদ্ধে এর আগেও সেবাপ্রার্থীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।