
কক্সবাজারের চকরিয়ায় জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি এবং মা ও কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোররাতে কোনাখালী ইউনিয়নের বটতলী বাজার এলাকায় শ্বশুরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ জিসান নামের ২৪ বছর বয়সী ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ জিসান পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলুনিঘোনা সিকদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ জালালের ছেলে।
গত ৮ জুন রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার আওতাধীন পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে এই ভয়াবহ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে আট থেকে দশ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল জানালার গ্রিল কেটে ওই বাড়িতে ঢোকে।
তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের পর গৃহকর্ত্রী এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
পরে খবর পেয়ে স্বজনরা মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত অবস্থায় মা-মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়।
বর্বরোচিত এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হোসনে আরা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া জিসানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে জিসান গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
দ্রুততম সময়ে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার জন্য চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।