সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চিকিৎসকবিহীন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | ৯:৪০ অপরাহ্ন


দালাল চক্রের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জেরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় অনুমোদনহীন শেভরন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

নিহত জান্নাতুল মাওয়া লুচি (২২) চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার বাসিন্দা শেফায়েত মাসুমের স্ত্রী।

শুক্রবার রাতে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের প্রবেশপথে অবস্থিত ওই বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনায় শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন।

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউল আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

মো. শফিউল আলম জানান, শেভরন হাসপাতালের কোনো লাইসেন্স নেই। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া কেবল ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালনা করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই জরিমানা করা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকলেও নিজস্ব দালালের মাধ্যমে প্রসূতি জান্নাতুল মাওয়া লুচিকে শেভরন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।

শুক্রবার দুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর রক্ত দেওয়ার সময় তার খিঁচুনি শুরু হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

নিহতের স্বজনরা জানান, শেভরন হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকা সত্ত্বেও ডা. নিশাত ফারজানা সুরভি এই সিজারিয়ান অপারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

অপারেশনে সহযোগী হিসেবে হিরা বর্মন, নাজেম ও সাথী ছিলেন বলেও স্বজনরা অভিযোগ করেন।

স্বজনরা আরও জানান, মৃত্যুর পর রোগীকে দেওয়া রক্তের ব্যবহৃত ব্লাড ব্যাগ দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে তাদের সন্দেহ ও ক্ষোভ বাড়ে।

এ ঘটনার পর শুক্রবার হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল কবিরসহ অন্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান।

নুরুল কবিরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ‘সেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নাম ব্যবহার করে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা চলছিল।

তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক পরিচালকের দাবি, হাসপাতালটি ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আলাদা এবং কয়েকজন মিলে এটি পরিচালনা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে হাসপাতালটি পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জায়নুল আবেদিন।

পরে একই বছরের ৩ জুলাই চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নানা অনিয়মের কারণে হাসপাতালটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল।

অভিযোগ উঠেছে, দালাল চক্রের সদস্যরা চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করে শেভরনসহ আশপাশের অখ্যাত হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে বাণিজ্য চালাচ্ছে।

দালালদের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা লাঞ্ছিত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জায়নুল আবেদিন জানান, রোগী মৃত্যুর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।