সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, এবার আলোচনায় টিটু

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন | প্রকাশিতঃ ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | ৯:৪৯ অপরাহ্ন


রাজনীতির মাঠে কেউ আসেন সুসময়ে, কেউ থাকেন দুঃসময়েও। আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু দ্বিতীয় দলের। খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, দল যখন মামলা-হামলায় কোণঠাসা- তখনো মাঠ ছাড়েননি তিনি। লোহাগাড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়েছিল। একটি মামলায় তিনি ছিলেন ১ নম্বর আসামি। তবু দলের পতাকা হাতে রেখেছিলেন। চারটি মামলায় খালাস পেয়েছেন, দুটি এখনো বিচারাধীন।

এই দীর্ঘ পথচলার পর এবার লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদে নেতৃত্বের প্রত্যাশায় নিজের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন তিনি।

ছাত্রদল থেকে উপজেলা বিএনপি- ৩২ বছরের অভিযাত্রা

টিটুর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্রদলের হাত ধরে। বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি থেকে লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব, সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক ও নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্ররাজনীতি পেরিয়ে বিএনপির মূলধারায় এসেছেন। পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে দুইবার সদস্য, দুইবার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০২১-২০২৫ মেয়াদে যুগ্ম আহ্বায়ক- এই দীর্ঘ পথচলায় তৃণমূলের মাটির সঙ্গে মিশে গেছেন তিনি।

টিটু বলেন, “দলের জন্য ৩২ বছর একটানা রাজনীতি করেছি। দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দায়িত্ব পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে লোহাগাড়া বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করতে কাজ করব।”

নেতাকর্মীরা বলছেন যোগ্য নেতৃত্ব

আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা এস.এম. সাহাবউদ্দিন বলেন, “ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর হাত ধরে অনেক নেতাকর্মী রাজনীতিতে এগিয়ে এসেছেন। দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ।”

লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব রমজানুল কবির জয় বলেন, “তাঁর অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বিবেচনায় আমরা মনে করি, সদস্য সচিব হিসেবে টিটু যোগ্য নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”

লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে ঘিরে এখন নেতৃত্বের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদস্য সচিব পদে কে আসছেন- সেই প্রশ্নে নেতাকর্মীদের নজর এখন দলীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে।

টিটু বলেছেন, ব্যক্তিগত পদ-পদবির জন্য নয়, দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা আর নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ৩২ বছর যিনি মাটির কাছাকাছি থেকেছেন, তাঁর সেই কথায় বিশ্বাস রাখতে চান অনেকেই।