
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হলেও প্রাণনাশের হুমকিতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে ভয় পাচ্ছেন বন কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বনবিটে এই জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে।
ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও দখলবাজ চক্রের প্রাণনাশের হুমকির কারণে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সাহস পাচ্ছেন না তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মাদার ট্রি, গর্জন বাগান ও সামাজিক বনায়নের জায়গায় এই দখলদারিত্ব শুরু হয়েছে।
এক মাসের ব্যবধানে সেখানকার বনভূমি দখল করে অবৈধ বসতি, মুরগির খামারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর পেছনে স্থানীয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নীরবতার সুযোগে সংরক্ষিত বনভূমিতে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মাহমুদ জানান, অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ না হলে সংরক্ষিত বনভূমি সংকুচিত হবে।
এতে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (শিক্ষানবিশ এসিএফ) কামরুল হাসান জানান, ডুলাহাজারা বনবিটের ওই জায়গায় ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা ও মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
রেঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খসরুল আমিন জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর দখলবাজ চক্র সেখানে পুনরায় মুরগির খামারসহ অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে বলে তাঁরা শুনেছেন।
এই অবস্থায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে সেখানে টাস্কফোর্সের সহযোগিতায় কঠোর অভিযান পরিচালনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান খসরুল আমিন।