
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ও টিপসই জালিয়াতি করে ভুয়া বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
জমি দখলের চেষ্টার পাশাপাশি বাদীর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানার একটি দল উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মো. ওমর ফারুক ও আবু তাহের লিটন, আবদুল কাদেরের ছেলে মাসুদ পারভেজ শাহেদ এবং আবদুল নবির ছেলে মো. নাঈম উদ্দিন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী সোনাইছড়ি এলাকা থেকে জাল দলিল তৈরিকারী ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
মামলার নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর ৭৯৪৮ নম্বরের একটি ভুয়া বণ্টননামা দলিল প্রস্তুত করে।
ওই দলিলে কুমিরা মৌজার ১০ শতক বাড়ি ও ভিটা তাদের নামে দেখিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়।
দলিলে জমির মালিক মৃত আবদুল হককে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হয়। অথচ তিনি কখনোই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হননি এবং কোনো প্রকার সই বা টিপসই দেননি।
তার পাসপোর্টে থাকা আসল স্বাক্ষরের সঙ্গে ভুয়া দলিলের স্বাক্ষরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা এই ভুয়া দলিলটি আসামিরা দীর্ঘদিন গোপন রাখে।
পরে ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল হকের মৃত্যুর পর তারা দলিলটি প্রকাশ্যে এনে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালায়।
চট্টগ্রাম জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটির বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করে।
গত ২৭ আগস্ট সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, দলিলের তিন নম্বর সাক্ষী মো. সাইফুলকে প্রতারণামূলকভাবে ওয়ারিশি আপস-বণ্টনের কথা বলে সই নেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া দুই নম্বর সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদ দলিলে আংশিক নাম (মো. শাহেদ) ব্যবহার করে তথ্য গোপনের চেষ্টা করেন।
এর আগে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের বিবিধ মামলা অনুযায়ী দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দাখিল করা জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো সই বা সম্মতি ছিল না।
মামলার বাদী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করে নেওয়ার সময় তারা পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এমনকি জামিনে বেরিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা।