
প্রথাগত কূটনীতির বাইরে গিয়ে সংসদীয় কূটনীতি ও পেশাদার বিনিময়ের মাধ্যমে ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ।
সংসদীয় বিষয়াবলি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই মৈত্রী গ্রুপের মূল লক্ষ্য।
এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হয় মৈত্রী গ্রুপের প্রতিনিধিদল।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা স্মরণ করেন।
তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া বাংলাদেশের পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী এবং সেই সম্পর্ক আজ সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিজ্ঞান, খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে যৌথ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সুসংহত করার ওপর জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন জানান, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে রাশিয়া সহযোগিতা দেবে।
তিনি প্রত্যাশা করেন, সংসদ সদস্যদের এই যৌথ অংশগ্রহণ বিদ্যমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বৈঠকে রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি মিয়া সাত্তার জানান, পারস্পরিক সুবিধাই যেকোনো টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত।
এই সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও নির্ভরতা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
বৈঠকে মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে সংসদ সদস্য খাইরুল কবির খোকন, সাঈদ আল নোমান, সাইফুল আলম, আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং জেবা আমিন খান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার পাশাপাশি রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমাতেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে একজন মুসলিম সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে ‘গ্রুপ অব ডেপুটিস’ গঠন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদীয় কূটনীতির এই বিকাশ ভবিষ্যতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে উভয় দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।