
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে ধাত্রী ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়।
দীঘিনালা জোনের আওতাধীন বরাদম, বাবুছড়া ও জারুলছড়ি- এই তিনটি আর্মি ক্যাম্পে একযোগে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির সরাসরি নির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাই করা মোট ৬৭ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
এর মধ্যে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ২০ জন নারীকে দেওয়া হচ্ছে ধাত্রী প্রশিক্ষণ এবং ৪৭ জনকে দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে নারীদের জন্য ধাত্রী প্রশিক্ষণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে কর্মক্ষম করে তুলতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণও সমান তাৎপর্যপূর্ণ।
দীঘিনালা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা দীঘিনালা জোনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুর্গম এলাকার মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানো এখনো কঠিন, সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় জনজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।