
রিকশা চালকের সঙ্গে ভাড়ার বিরোধ মেটানোর নামে মারধর এবং পরবর্তীতে চাঁদা দাবির জেরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও নগদ ৭৪ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার দেওটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদ আলমের নেতৃত্বে এই হামলা, ভাঙচুর ও অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ও আমিরাবাদ ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন।
অন্যদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও থানা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে নূর হোসেনের বড় ছেলে রাকিব বাজার থেকে ফিরে রিকশাচালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় রাশেদ ও তাঁর অনুসারীরা বিষয়টি মীমাংসার নামে রাকিবকে মারধর করেন।
রাকিব ঘটনাটি ফেসবুকে ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরলে ক্ষিপ্ত হয়ে রাশেদ মুঠোফোনে নূর হোসেনকে গালিগালাজ করেন এবং ছেলেকে বাঁচাতে চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা না পেয়ে ৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাশেদ আলমের নির্দেশে আলী ও নিশানসহ ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমিরাবাদ গ্রামে নূর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলায় নূর হোসেনের জামাতার তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি পালসার মোটরসাইকেল, এক লাখ টাকা মূল্যের চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭৪ লাখ টাকা লুট করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা নূর হোসেনের ছোট ছেলে রবিনকে তুলে নিয়ে যায়।
পরে রাকিব হামলার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করলে হামলাকারীরা ফিরে এসে তাঁকেও তুলে নিয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক মারধর করে ‘হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি’ মর্মে ভিডিও তৈরি করে তা ফেসবুকে পোস্ট করতে বাধ্য করা হয়।
গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়ে নূর হোসেন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নোয়াখালী জেলা শাখা তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. মহসিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন—নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি জাহিদ হোসেন রুবেল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন রাজু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ সাদ্দাম।
নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ সাদ্দাম রাশেদ আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোনাইমুড়ী থানা-পুলিশ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।