চট্টগ্রাম: সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের সদ্য ঘোষিত ২১ সদস্যের কমিটিতে স্থানীয় সাংসদ ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ঠাঁই হয়নি সাতকানিয়ার সন্তান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের অনুসারীদের।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ আমিন অনুসারিরা কমিটি বাতিলের দাবিতে শুক্রবার সাতকানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিকে বিকেলে সাতকানিয়া উপজেলা সদরে আনন্দ মিছিল ও শোডাউন করেছে নদভীর অনুসারিরা।
এর আগে সাইদুর রহমান দুলালকে আহবায়ক ও আ ন ম সেলিম উদ্দিন (মাদার্শা ইউপি চেয়ারম্যান)এবং হারেছ মোহাম্মদকে যুগ্ম আহবায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ১৮ এপ্রিল যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এই কমিটি অনুমোদন দেন।
পাঁচ বছর আগে আসাদকে সভাপতি ও আব্দুল গফুরকে সেক্রেটারি করে সাতকানিয়া যুবলীগের কমিটি গঠন হয়েছিল। তারা আমিনের অনুসারি হিসেবে পরিচিত। এরাই আজ সাতকানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রতিবাদ সভা করে সদ্য ঘোষিত যুবলীগের কমিটি বাতিলের দাবি জানান। অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করা না হলে পাল্টা কমিটির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কমিটিতে নিজের অনুসারীদের প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, ‘আমার ডিও লেটারের ভিত্তিতে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী নতুন এ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। কমিটির সবাই তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতাকর্মী।’
তিনি বলেন, ‘গতবছর লোহাগাড়া উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটিও আমার সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ছাত্রলীগের কমিটিও আমার কথামত হয়েছে। আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মীও আছেন আমার সাথে।’
‘সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বনফুলের মোতালেব সাহেব এমপির নমিনেশন চান বলে আমার সাথে দুরত্ব রাখেন। আর সেক্রেটারি অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত, তাই নিজ থেকেই তার সাথে আমি যোগাযোগ রাখি না।’ যোগ করেন ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।
শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের সাথে যোগাযোগ করে প্রসঙ্গটি তুলতেই তিনি থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠেন, ‘আমি বলি শোনেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথাই বলতে চাইনা। সিনিয়রদের সাথে কথা বলতে পারেন।’
এসআর/এটি/একুশে