সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত হবে না : খন্দকার মোশাররফ

| প্রকাশিতঃ ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ৭:২৩ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত হবে না, গণতন্ত্র মুক্ত না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। আর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না।’

সোমবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের একমাত্র প্রেরণা। বেগম জিয়াকে ব্যতিরেকে কোনো নির্বাচন হবে না। মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে হাত-পা বেঁধে চক্রান্তের নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র অচিরেই নস্যাৎ হয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্য মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। দেশে যদি আইনের শাসন থাকতো, তাহলে আপিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়া মুক্তি পেতো। খালেদা জিয়াকে একা, একটি নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। যেখানে থাকা-খাওয়ার তেমন ভাল সুযোগ নেই। খালেদা জিয়া আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। সরকার মিথ্যা ও সাঁজানো মামলায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাবাসে রেখেছে। কোন সু-চিকিৎসা করাতে দিচ্ছে না। ইউনাইটেড হাসপাতালসহ দেশের যেকোন উন্নত হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করার সুযোগ দিতে হবে। খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে দেশে কোন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, প্রতিনিধিত্বমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। জনগণ তা হতে দেবে না।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। আওয়ামী লীগ ভেবেছিল বেগম জিয়াকে কারাগারে নিলে আমরা নির্বাচনের কথা ভুলে যাব। আমরা পরিষ্কার করতে বলতে চাই, গণতন্ত্র এবং অংশগ্রহণমূলক একাদশ জাতীয় নির্বাচন সবকিছুর সঙ্গে খালেদা জিয়া একসূত্রে গাঁথা। সেজন্য খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই হবে আমাদের প্রধান শপথ।’

তিনি বলেন, ‘লন্ডন থেকে তারেক জিয়াকে ফিরিয়ে আনা হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা যেভাবে চান, সেইভাবে নয়। তারেক জিয়াকে বীরের বেশে এ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। লন্ডন থেকে আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এখন আতংকিত। সাধারণ জনগণ সারাদেশে এ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু করবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা ও সাঁজানো মামলা দিয়ে হয়রানি ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বি্এনপির সিনিয়র নেতাদের মামলা দিয়ে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে খালেদা জিয়া নির্দেশনা দিয়েছেন্। সেই লক্ষে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। প্রয়োজনে সমযোপযোগী কঠোর আন্দোলনে যাবে দেশের সাধারণ জনগণ।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচন সম্পর্কে কোনো কথা হবে না। আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। গণতন্ত্র মুক্ত করব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। আইনের শাসন আসবে। তারপর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে।’

নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহুবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমেদ, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

একুশে/এএ