শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন

| প্রকাশিতঃ ৭ জুন ২০১৮ | ৩:২৬ অপরাহ্ন

ঢাকা: নতুন অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৫ এবং মূল বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এটি দেশের ৪৭তম বাজেট। আর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসাবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের ১২তম বাজেট। মুহিত দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী, যিনি ২০০৯ সাল থেকে একনাগাড়ে ১০টি বাজেট পেশ করেছেন। এবার মূল বাজেটের যে আকার মুহিত ধরেছেন, তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮.৩ শতাংশ। গতবছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল জিডিপিরি ১৮ শতাংশ। প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ কোটি টাকার এই বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা; যার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)।

আর অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট দেওয়ার রেকর্ড স্পর্শ করা মুহিত বিশাল এই ব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশ অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন।

বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন মুহিত। এছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে চার হাজার ৫১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে কাজেট প্রস্তাবে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, আদায় সন্তোষজনক না হওয়ায় তা সংশোধন করে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধন করে তা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকায় নামানো হয়।

অর্থমন্ত্রী সংসদের সামনে যে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। ঘাটতির এই পরিমাণ মোট জিডিপির ৫ শতাংশের মত। এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীর সহায় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ। তিনি আশা করছেন, বিদেশ থেকে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ধার করে ওই ঘাটতি মেটানো যাবে।

এর আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া মন্ত্রিসভায় নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০১৮ (সম্পুরক) ও নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০১৮ অনুমোদন দেয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীগণ সভায় অংশ নেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সম্মতি প্রদান করেন। সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির অফিস কক্ষে তিনি এ সম্মতি প্রদান করেন।

একুেশে/এসআর