
আন্তর্জাতিক: রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদন্ড দিয়েছে মিয়ানমারের একটি আদালত। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কারণে মিয়ানমার আদালত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সো ওর (২৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গত ২৭ আগস্ট রায় ঘোষণার কথা থাকলেও বিচারপতি অসুস্থ থাকায় ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার ঐ দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। খবর রয়টার্সের।
গ্রেপ্তারের পর থেকে তাদের নির্দোষ দাবি করে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এছাড়া দুই সাংবাদিকের পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের ফাঁসানো হয়েছে।
রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, ‘রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর জন্য, মিয়ানমারের জন্য এমনিক সারা বিশ্বের জন্য আজ একটি দু:খের দিন।’
ইয়াঙ্গুনে পুলিশ কর্মকর্তাদের এক ডিনারের আমন্ত্রণে যাওয়ার পর গত ১২ ডিসেম্বর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গোপন নথিপত্র ছিল তাদের কাছে।
এরপর গত ৯ জুলাই ইয়াঙ্গুনে জেলা জজ আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিক সেদিন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, সংবাদিকতার সব নিয়মই তারা অনুসরণ করেছেন।
রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিককে মুক্তি দিতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু কারো কথায় কর্ণপাত করেনি মিয়ানমার।
গত বছরের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। চালানো হয় গণহত্যা। এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে সেসময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। পরে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রাখাইনে জাতিগত নিধনের চেষ্টা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
রবিবার রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ করে সাংবাদিকসহ কয়েক শ মানুষ।
একুশে/এসএইচ